Categories
See All >
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখার ঘরোয়া পদ্ধতি

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখার ঘরোয়া পদ্ধতি

Health Blogs
Hit Count : 128

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে নীরব ঘাতক। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।



যাদের রক্তচাপ অনেক বেশি তাদের নিয়মিত ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। অনেক সময়ে সব কিছুর পরেও রক্তচাপ কমানো মুশকিল হয়ে পড়ে।তবে আপনি জানেন কি?  ঘরোয়া কিছু বিষয় মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আসুন জেনে নেই কিভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

কী কী কারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়?

 কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বংশগত৷ তবে অনেকের ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কারণেই উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়৷ যেমন: ওবেসিটি, অতিরিক্ত মদ্যপান ৷ এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, প্রচুর  পেন রিলিভিরাল ট্যাবলেট খাওয়ার ফলেও এই প্রবণতা দেখা দেয়৷ এসব কারণে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ দেখা যায়৷



রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে  করণীয় :

 

১.লবণ কম খান:


                                                          


উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে কাঁচা লবণ খাওয়া যাবে না। আর রান্নাতেও যতটা সম্ভব লবণ কম দিন। অতিরিক্ত লবণ রক্তে মিশে দেহে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়ায় । ফলে রক্তচাপ হু হু করে বাড়তে থাকে। 

 

২.অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা:                                                    


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।


৩.নিয়মিত ব্যায়াম করুন :


                                                  


প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময় হৃদপিণ্ড শক্ত হয় এবং পাম্প করতে চাপ কম লাগে। যা আর্টারি প্রেশার কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ কমায়।


৪.চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন:


                                                    


উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।  চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- মাখন, চর্বিযুক্ত গরুর মাংস ও খাসির মাংসের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ পর্যাপ্ত খাওয়া উচিত।

৫.আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান :

                                                           


দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়।  শিম, বার্লিতে প্রচুর আঁশ থাকে।


৬.মদ্যপান পরিহার করুন :



                                                                       


অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।  মদ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

৭.ধূমপান পরিহার করুন:


                                                   


ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়।  রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।


৮.পটাসিয়ামের পরিমাণ বাড়ান :


                                                                                                        


যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের জন্য পটাসিয়াম একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। শরীরে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম থাকলে তা রক্তনালীর উপর চাপ এজন্য খাদ্যতালিকায় পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে। 

৯.কার্বোহাইড্রেট কম খান:

                                             


সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কার্বস ও চিনি উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়। এজন্য উচ্চ রক্তচাপের যারা ভুগছেন তারা অবশ্যই লো-কার্ব ডায়েট অনুসরণ করবেন। সাদা চিনি, ময়দাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার পরিহার করুন।

 

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কিছু ঘরোয়া  উপায় :

১.রসুন- উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী একটি জিনিস হল রসুন৷ সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে জল খেলে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে৷

২.পিঁয়াজ- জীবাণুনাশক হিসেবে পিঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম৷ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব কম নয়৷ পিঁয়াজ বাটা ও মধু সমানুপাতে মিশিয়ে প্রতিদিন দু’চামচ করে খেলে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ কমানো যায়৷

৩.নিম ও তুলসী-নিমের দুটি পাতা ও তুলসি দুটো পাতা বেটে, তার সঙ্গে অল্প জল মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে রক্তচাপ কমে৷ খালি পেটে সপ্তাহখানেক খেলেই এর উপকারীতা বোঝা যাবে৷

৪.ডাবের জল- শখ করেই অনেকে ডাবের জল খেয়ে থাকেন ৷ তবে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, রক্তচাপ কমানোতেও নিয়মিত ডাবের জল খাওয়া খুব উপকারী৷ এছাড়া পোস্ত বাটাও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে৷

 

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ওষুধের ভূমিকা:

 

উচ্চ রক্তচাপে ইতিমধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসক শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। কিছু ওষুধ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে ও কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

যদি স্বাস্থ্যকর জীবন বেছে নেন, তা হলে ধীরে ধীরে নিজে থেকেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, জল খাওয়া এবং মানসিক চাপ কম করলে শরীরের অনেক সমস্যা কমে যেতে পারে।

লিখেছেন – ইরোনা মৌমিতা

১  এপ্রিল  ,২০২২


তথ্যসূ্ত্র:

https://www.anandabazar.com/

https://www.prothomalo.com/

https://www.jugantor.com/

https://www.sangbadpratidin.in/