Categories
See All >
ঘাড়ে ব্যাথা থেকে মুক্তি পান ঘরোয়া উপায়ে

ঘাড়ে ব্যাথা থেকে মুক্তি পান ঘরোয়া উপায়ে

Health Blogs
Hit Count : 154
ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ করেই ঘাড়ের একপাশে প্রচণ্ড ব্যথা, কিংবা কাজ করতে করতে হঠাৎই ঘাড়ের একদিকে প্রবল টান, কিছুতেই ঘাড় ঘোরানো যাচ্ছে না এই রকম সমস্যায় অনেকেই পড়েছেন।



ঘাড়ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়নি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে শীতকালে এটি একটি কমন সমস্যা। ঘাড়ব্যথায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি ভোগেন।  ঘাড় ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো ঘাড় ব্যথা কমাতে কাজ করে।


ঘাড়ে ব্যাথা কী কারণে হয়  ?


১)ঘাড়ের অতিরিক্ত ব্যবহার, যেমন বেশ কয়েক ঘণ্টা কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ঘাড় বাঁকা করে কাজ করা। এতে ঘাড়ের মাংসপেশিতে টান পড়ে এবং ব্যথা করে।


২) শরীরের অন্যান্য জয়েন্টের মতো ঘাড়ের জয়েন্টগুলোও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয় হয়ে যায়। । এরপর সেখানে ছোট ছোট হাড়ের সৃষ্টি হয়, যা জয়েন্টের নড়াচড়ায় বাধা দেয় এবং ব্যথা করে।


৩)ঘাড়ের স্থানচ্যুত কশেরুকার মধ্যকার ছোট হাড়ের টুকরাগুলো স্পাইনাল কর্ড থেকে বেরিয়ে আসা নার্ভের শাখা-প্রশাখার ওপর চাপ দেয়, ফলে ঘাড় ব্যথা হয়।





৪)কোনো গাড়িতে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে যদি অন্য কোনো গাড়ি আঘাত করে, তাহলে মাথা পেছন দিকে ঝাঁকি খায়, এতে ঘাড়ের নরম টিস্যুগুলোতে টান লাগে ও ব্যথা হয়।


৫)কিছু রোগ ঘাড় ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, মেনিনজাইটিস অথবা ক্যান্সার।

 

প্রচন্ড ঘাড়ে ব্যাথা হলে কী করবেন ?


১.ব্যায়াম  করুন:




ঘাড়ের ব্যথা কমাতে কয়েকটি ব্যায়াম করুন। এতে ঘাড়ের পেশীগুলো নমনীয় ও আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য প্রথমে আপনার মাথা সামনে-পিছনে ঝোঁকান। এভাবে ৫ বার করার পর মাথা ডান দিকে একবার ঘুরিয়ে নিন। তারপর বাম দিকে ঘুরিয়ে নিন।


২.আপেল সিডার ভিনেগার:



আপেল সিডার ভিনেগার ঘাড়ের ব্যথা এবং শক্তভাব দূর করার দুর্দান্ত এক ঘরোয়া উপায়। আপেল সিডার ভিনেগারে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এজেন্টগুলো ঘাড়ের ব্যথা কমাতে পারে।এজন্য আপেল সিডার ভিনেগার ও সামান্য পানি মিশিয়ে নিন।  এর মধ্যে একটি কাপড় ভিজিয়ে ঘণ্টাখানেকের জন্য ঘাড়ের ব্যথার স্থানে রাখুন।

৩.ম্যাসেজ থেরাপি


ম্যাসেজ থেরাপি শরীরের যেকোনো ব্যথা নিরাময় করতে পারে।পাশাপাশি আপনাকে আরও ভালো ঘুমাতে সহায়তা করে। রক্ত প্রবাহকে উদ্দীপিত করতে এবং পেশীগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। এজন্য এক টেবিল চামচ তেল সামান্য গরম করে ঘাড়ে ম্যাসেজ করুন। তবে অতিরিক্ত ব্যথা হলে কোনো আহত স্থান ঘষবেন না।

৪.আইস প্যাক:


পেশীর প্রদাহ কমাতে বরফ দুর্দান্ত কার্যকরী। আইস প্যাক প্রয়োগে ত্বকের ভাসোডিলেশন বাড়ে, যা শীতল রক্তের প্রবাহকে ঘাড়ের পেশীগুলো ফিরে যেতে সাহায্য করে। এজন্য প্রথমে তোয়ালের মধ্যে বরফের কিউবগুলো রাখুন এবং এটি ঘাড়ে রাখুন। কয়েক মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন।

৫.হলুদ:


কাঁধের ব্যথা কমাতে হলুদ একটি চমৎকার উপাদান। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট; রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি ফোলা ও ব্যথা কমাতে কাজ করে। দুই টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ার মধ্যে এক টেবিল চামচ  নারকেলের তেল মেশান। মিশ্রণটি কাঁধে মাখুন এবং শুকাতে দিন।


৬.আদা:




আদার মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি ব্যথা কমায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।আদা কেটে নিন । এরপর দুই/তিন টুকরো কাটা আদা দুই কাপ পানির মধ্যে সিদ্ধ করুন। এর মধ্যে মধু যোগ করুন এবং পান করুন ।


বিশেষ সর্তকতা :


ঘাড় ব্যথা প্রতিরোধ করতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করুন । যেমন:



Ø আপনি যখন দাঁড়াবেন কিংবা বসবেন, আপনার ঘাড় সোজা রাখুন ।

 

 

Ø যদি দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করেন, অথবা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করেন, তাহলে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়াবেন, হাঁটবেন এবং ঘাড় প্রসারিত করবেন।

 

Ø খেয়াল রাখুন, ফোনে কথা বলার সময় যেন সেটি কান ও কাঁধের মাঝে ঠেসে না থাকে।



 

Ø যদি ধূমপায়ী হন, আজই ধূমপান ত্যাগ করুন। ধূমপান কাঁধে ব্যথার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

 

Ø কাঁধে ফিতাওয়ালা ব্যাগ বহন করবেন না। ব্যাগের ওজনে ঘাড়ে টান পড়ে ও ব্যথা বাড়ে।

 

Ø এমনভাবে ঘুমাবেন, যাতে মাথা ও ঘাড় শরীরের একই সারিতে থাকে। ঘাড়ের নিচে ছোট একটি বালিশ দিন।


 

কখন ডাক্তার দেখাবেন?


যদি ঘাড় ব্যথা তীব্র হয়, ঘরোয়া চিকিৎসায়  যদি ব্যথা না কমে একটানা কয়েক দিন স্থায়ী থাকে, হাতে বা পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে এবং  মাথা ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা ঝিনঝিন অনুভূতি থাকে, তাহলেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।



লিখেছেন –ইরোনা মৌমিতা

৫ মার্চ, ২০২২


তথ্যসূত্র :


https://www.jagonews24.com/

https://www.prothomalo.com/

https://www.ntvbd.com/

https://www.ekushey-tv.com/

https://www.jugantor.com/